লিজে ১০ উড়োজাহাজ আনবে বিমান, এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি কেনার উদ্যোগ

লিজে ১০ উড়োজাহাজ আনবে বিমান, এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি কেনার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহরের সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবও পর্যালোচনা করছে সংস্থাটি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে লিজের মাধ্যমে বিমানের বহরে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এর মধ্যে তিনটি গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিচালনাগত প্রয়োজন এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০টি করা হতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে বিমান চলাচল চালু করা সম্ভব হবে।

লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এসব আবেদনের মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে পুরো লিজ প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার নেওয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বিমান। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও বিমান সূত্রের ভাষ্য, নতুন উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিমান পাওয়া কঠিন। বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই ২০৩০ সালের আগে নতুন উড়োজাহাজ পাওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি মধ্যবর্তী সময়ের চাহিদা পূরণে লিজের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ওই চুক্তির আওতায় ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার কথা রয়েছে। এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার কথা।

বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির পর বিমানকে ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দেয় এয়ারবাস। প্রস্তাবিত বহরে রয়েছে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং চারটি এ৩২১-নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।

এয়ারবাসের প্রস্তাবটি বর্তমানে কারিগরি, আর্থিক ও পরিচালনাগত দিক থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করছে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এয়ারবাসের প্রস্তাব পর্যালোচনার বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে এয়ারবাসের প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০-এর দশকে সংস্থাটির বহর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, লিজ, রুট সম্প্রসারণ এবং পরিচালনাগত সক্ষমতা—সবকিছু সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নই এখন বিমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।