নিজস্ব প্রতিবেদক : জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের দীর্ঘ ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে পরিণত করতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
রোববার রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এসব প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত একটি অংশ হিসেবে নিজেদের শাসক না ভেবে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণের যৌক্তিকতা নেই, যদি তা জনগণের প্রকৃত কল্যাণে না আসে।
সঠিক নীতি প্রণয়নে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সঠিক তথ্য ছাড়া কার্যকর নীতি প্রণয়ন সম্ভব নয়। দেশের জনসংখ্যা, কৃষি উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে কৃষি ও প্রবাসী আয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে কেন্দ্র করে কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বের বিভাজন তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতি নির্ধারণ করা হয়। আর প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সেই নীতির আলোকে কর্মসূচি ও প্রকল্প প্রণয়ন এবং যথাযথ তদারকির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা।
তিনি বলেন, কোনো কার্যক্রমই নিয়মের বাইরে পরিচালনা করা যাবে না। নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা অঙ্গীকার জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করাই সরকারি কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।