জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান

সংস্কৃতিচর্চায় গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন সম্ভব

‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মুক্তমন রিপোর্ট: আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চা মানুষকে গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের আয়োজনে ‘উৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি আহত জুলাই যোদ্ধা এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিক পরিণতিই ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সেই চেতনা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আবৃত্তিচর্চা দেশের শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আবৃত্তিকে শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা শেষে আবৃত্তি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।