মুক্তমন রিপোর্ট : অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামলার পর পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হেবরনের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরাও ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীরা হেবরনের যে এলাকা থেকে এসেছিলেন, সেখানকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো, অস্ত্র জব্দ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবকাঠামো ধ্বংসের কথাও জানান তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা ঠিক সেটাই এখানে করব। আমরা বাসিন্দাদের সরিয়ে দেব, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাব, সেখানকার অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করব এবং সমস্ত সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করে দেব।’
২০০২ সালে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গও টানেন নেতানিয়াহু। ওই অভিযানে বহু ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। সে সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উচ্ছেদসহ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার কথা বলেছিল। তবে ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর হেবরনে হামলার কাছাকাছি এলাকায় ইসরায়েলি বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভেঙে ফেলা বাড়িগুলোর সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
নির্বাচনের আগে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জনমত জরিপের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সামরিক প্রধান গ্যাডি আইজেনকোট—কেউই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই।
নেতানিয়াহু সরকারের সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও অধিকাংশ দেশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে বিবেচনা করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সাংবাদিক, ইউরোপীয় কূটনীতিক ও ফ্রান্সের একজন মেয়রসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরাও ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরের একটি বসতির কাছে ঝরনার পাশে গুলিতে এক ইসরায়েলি ব্যক্তি নিহত হন। পরে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
Muktomon/TA