ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নয়ন, কাজ শেষের লক্ষ্য ২০২৯

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজ পরিদর্শন করছেন মন্ত্রী
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজ পরিদর্শন করছেন মন্ত্রী

মুফিজুর রহমান নাহিদ : জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুন ২০২৯ সালের মধ্যে মহাসড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম।

শনিবার হবিগঞ্জের মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনের পাশাপাশি দুই পাশে সার্ভিস লেনসহ মোট ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে ছিল না।

বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি প্রায় ৫৬ শতাংশ, ভৌত কাজের অগ্রগতি প্রায় ২৭ শতাংশ এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের অগ্রগতি প্রায় ৩৯ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে পাঁচটির কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। বাকি আটটি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে। যেসব এলাকায় কাজের গতি কম বা নির্ধারিত অগ্রগতির সঙ্গে বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণ, বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য স্থাপনা, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং মামলা-মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন বিষয় প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলেও জানান তিনি।

আশুগঞ্জ-সরাইল অংশের অগ্রগতি তুলে ধরে শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতের সহযোগিতায় এলওসির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজের অগ্রগতি বর্তমানে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ।

একপর্যায়ে এ অংশের কাজ প্রায় স্থবির হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পর এখন তা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাময়িক জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে মহাসড়কটি জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজরুল করিমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Muktomon/TA