২০ সিসিটিভি বসিয়েও গ্রেপ্তার হ্যাকার

কবুতরের ঘরে লুকিয়েও শেষরক্ষা হয়নি

কবুতরের ঘরে লুকিয়েও শেষরক্ষা হয়নি

মুক্তমন রিপোর্ট : পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির চারপাশে বসিয়েছিলেন একের পর এক সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রধান সড়ক থেকে নিজের বাড়ি পর্যন্ত নজরদারির ব্যবস্থা করেছিলেন। ঘুমানোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন এমন এক জায়গা, বাইরে থেকে দেখলে যেটিকে মনে হবে কবুতরের ঘর। সেখানে ছিল বিছানা, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র।

তবু শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লা (৩২), যাকে পুলিশ এলাকায় একটি হ্যাকিং চক্রের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দাবি করেছে।

সোমবার দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালপুর থানা-পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওহিদুল লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে।

পুলিশ দেখলেই পালানোর প্রস্তুতি

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়ির চারপাশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল।

পুলিশের দাবি, উদ্দেশ্য ছিল প্রধান সড়ক দিয়ে পুলিশের কোনো গাড়ি বা সদস্য এলাকায় ঢুকলেই তা আগেভাগে শনাক্ত করা। সে অনুযায়ী পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখতেন তিনি।

কিন্তু এতসব সতর্কতার পরও পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েন ওহিদুল।

কবুতরের ঘরেই ছিল গোপন আস্তানা

ওহিদুলের বাড়িটি ছিল প্রাচীরঘেরা পাকা। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েক শ কবুতর রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ঘরের মধ্যেই একটি খাট বসিয়ে নিজের থাকার জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি।

বাইরে থেকে দেখলে সেটিকে সাধারণ কবুতরের ঘর বলেই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু ভেতরে ছিল থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নানা ব্যবস্থা। দামি আসবাবের পাশাপাশি সেখানে ছিল সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘরে বসেই ওহিদুল হ্যাকিংয়ের কার্যক্রম চালাতেন এবং অন্যের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতেন।

সাত ফোনে ৬৮ সিম

পুলিশের অভিযানে ওহিদুলের কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে এসব সিম ব্যবহার করতেন তিনি। সিমগুলোর নম্বর আবার সাদা কাগজে ছক আকারে লিখে রাখা ছিল।

কোন সিমে বিকাশ এবং কোনটিতে নগদ-সংক্রান্ত হিসাব রয়েছে, তা বোঝাতে সাংকেতিক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ওহিদুল ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

হ্যাকিং চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল মোল্লাকে বিলমাড়িয়া এলাকার হ্যাকার চক্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে মনে করছে পুলিশ। তাঁর অধীনে এলাকায় একটি হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, সবাই তাঁকে গুরু হিসেবে মানতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লার পাশাপাশি তাঁর পাঁচ সহযোগীকেও আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের মাধ্যমে হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে তাঁর এবং সহযোগীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।