মুক্তমন রিপোর্ট : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার কাছে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে সাবেক এক মোসাদ এজেন্টের সহায়তা নিয়েছেন ফ্লাভিও বোলসোনারো—এমন তথ্য উঠে এসেছে সিএনএন ব্রাজিলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি ভ্যান ও একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ব্যবহার করে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান ফ্লাভিও। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ফার্নান্দো ও দুই মেয়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সড়কপথে তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু দিয়ে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন তাঁরা। সেতুটি ব্রাজিলের ফোজ দো ইগাসু ও আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াসুর মধ্যে অবস্থিত।
সিসিটিভি ফুটেজে দুটি ভ্যানকে সীমান্ত পার হতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর একটি চালাচ্ছিলেন ফোজ দো ইগাসুর সাবেক এক কাউন্সিলর এবং অন্যটি তাঁর ছেলে। পুরো যাত্রায় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মোসাদের সাবেক এক এজেন্ট।
ওই এজেন্ট ১৯ অক্টোবর ব্রাজিলে পৌঁছান এবং ফ্লাভিওর সঙ্গে একই ভ্যানে করে আর্জেন্টিনায় যান। তবে যাত্রাপথে তিনি ঠিক কী ধরনের সহায়তা দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে পুয়ের্তো ইগুয়াসু থেকে আর্জেন্টিনার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেয়ার্স ফ্লাইয়ের একটি গালফস্ট্রিম জি৪৪০ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে তাঁরা ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলে যান। সেখান থেকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে পৌঁছান বলে জানিয়েছে সিএনএন ব্রাজিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাভিওর দেশত্যাগের এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন আলবা’। নির্বাচনের আগেই এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই কোনো ধরনের লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ব্রাজিলের তদন্তকারীরা। তবে এ পর্যন্ত কোনো দেশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ফ্লাভিও বোলসোনারোকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই নির্দেশের পরিবর্তে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাও রয়েছে।
সূত্র : সিএনএন ব্রাজিল
Muktomon/TA