পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমানোর নতুন পরিকল্পনা

এল নিনোর তীব্র খরায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমানোর পরিকল্পনা
এল নিনোর তীব্র খরায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমানোর পরিকল্পনা

মুক্তমন রিপোর্ট : এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র খরায় পানামা খালে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে খালে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আরও কমানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। পানির মজুত রক্ষায় এরই মধ্যে দৈনিক জাহাজ চলাচল কমানো হয়েছে।

সোমবার পানামা খাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসক এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট এল নিনো বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। এল নিনোর প্রভাবে মধ্য আমেরিকায় তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। এতে পানামা খালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পানামা খালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। খালটির লক ব্যবস্থা পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। এই পানির সাহায্যে বড় জাহাজগুলোকে পানির স্তর অনুযায়ী ওপরে তোলা ও নিচে নামানো হয়।

পানির মজুত রক্ষায় গত ৪ সেপ্টেম্বর পানামা খালে দৈনিক জাহাজ চলাচল ৩৬টি থেকে কমিয়ে ৩২টি করা হয়েছে। এবার অক্টোবর থেকে তা আরও কমিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৯ দশমিক ৫টি জাহাজে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পানামার পার্লামেন্টে জমা দেওয়া খসড়া বাজেটে এ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

খালবিষয়ক মন্ত্রী হোসে রামোন ইকাজা বলেন, অনুমোদিত বাজেটের মাধ্যমে পানামা খালকে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন, দক্ষ ও লাভজনকভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে চলতি বছরের এল নিনো গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালে এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে দৈনিক জাহাজ চলাচল ৩৮টি থেকে কমিয়ে ২২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল।

অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে পানামা খালে জাহাজ চলাচলের চাপও বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়া। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

পানির সংকটের মধ্যে জাহাজ চলাচল কমানোর এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Muktomon/TA