বাংলাদেশ-ডেনমার্ক বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করছেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক মোলার।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করছেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক মোলার।

মুক্তমন রিপোর্ট : টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক মোলার।

রোববার (১ নভেম্বর) ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে যৌথ ওয়ার্কিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্বর্ণদ্বীপের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।

বৈঠকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ও সম্ভাবনাময় জমি এবং শিল্পসম্পদে বিনিয়োগে ডেনিশ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে আগে চিনিকলসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা ছিল বা এখনো রয়েছে—এমন স্থানে নতুন শিল্প স্থাপন এবং বিদ্যমান সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহারের সুযোগ তুলে ধরা হয়। আগ্রহী ডেনিশ বিনিয়োগকারীরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে দুই দেশের সহযোগিতার আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব), ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট-১ ড. জুলিয়া মইন উত্তরাঞ্চলে এ শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

তিনি মৌসুমি কৃষিপণ্যভিত্তিক সম্ভাব্যতা যাচাই, কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ফল থেকে পানীয় ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন। এসব পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।

Muktomon/TA