আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ : সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে না; রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে গ্যারান্টর হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে মুক্তমন। জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংক প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ধাপে এই অর্থ সরবরাহ করা হতে পারে। এর বড় অংশ আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করবে ব্যাংকটি।
১৫ অক্টোবর থেকে আমানত ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি
ব্যাংকটির আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। গত রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম চলবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে গ্রাহকেরা টাকা তুলতে পারবেন বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন মুক্তমনকে বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। সব শাখায় আমানতকারীদের অর্থের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন ছাড়াও সব গ্রাহক অর্থ ফেরত পাবেন বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা প্রয়োজন নাও হতে পারে
মেলিতা মেহজাবীন বলেন, ব্যাংকটির নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার প্রয়োজন হবে না। সে কারণে আমানতকারীদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের চাহিদা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী নগদ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমানতকারীদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত খুব বেশি অর্থ উত্তোলনের আবেদন জমা পড়েনি। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংকট কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক সংকটের কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক তারল্য চাপে পড়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার উদ্যোগের চূড়ান্ত শর্ত, অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এবং গ্যারান্টির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।