লাখো মানুষের বিক্ষোভে মোদির অপরাজেয় ভাবমূর্তি

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রতীকী দৃশ্য
ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রতীকী দৃশ্য

মুক্তমন রিপোর্ট : ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থী, বিরোধী দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আল জাজিরার কলাম লেখক ও সাংবাদিক বিদ্যা কৃষ্ণ। তাঁর মতে, বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদগুলো ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়ে মোদির ‘অপরাজেয়’ ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

আল জাজিরায় প্রকাশিত এক মতামতধর্মী কলামে বিদ্যা কৃষ্ণ লিখেছেন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আলাদা আলাদা ইস্যুতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী ও বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যে এখন একটি অভিন্ন দাবি দেখা যাচ্ছে—সরকার ও ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

কলামে বলা হয়েছে, গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে অহিংস অসহযোগ কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধার্থে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য কলামে উপস্থাপন করা হয়নি।

এদিকে দিল্লিতে নারীদের নিরাপত্তা, মুম্বাইয়ে আইআইটি বোম্বের শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আর পুনেতে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অনিয়ম ও স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আলাদা আলাদা ইস্যুর এসব আন্দোলন ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং বিরোধী দলগুলোর নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন।

কলামে মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও তার সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের দাবি, আগে যে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ মোদি সরকারকে শক্ত অবস্থানে রেখেছিল, এখন তা আগের মতো কার্যকর নেই।

বিদ্যা কৃষ্ণের মতে, বর্তমান আন্দোলনগুলোর কেন্দ্রীয় বিষয় ভিন্ন হলেও জবাবদিহির দাবি তাদের মধ্যে একটি অভিন্ন যোগসূত্র তৈরি করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই জবাবদিহির দাবি উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অক্টোবরজুড়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও একাধিক বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কলামে দাবি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়ার দাবিও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যারিকেড দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন লেখক। তাঁর দাবি, একাধিকবার আটক হওয়ার পরও আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আবারও প্রতিবাদে ফিরে আসছে।

কলামের শেষাংশে বিদ্যা কৃষ্ণ লিখেছেন, প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করে সরকার সাময়িকভাবে রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও শুধু শক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বৈধতা ধরে রাখা কঠিন। তাঁর দৃষ্টিতে, অক্টোবরের আন্দোলন মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

Muktomon/TA