মুক্তমন রিপোর্ট : আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকার বিষয়ে ফোনে আলোচনা করেছেন ইরান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কূটনীতিকরা। তবে ইয়েমেনে দুই দেশ পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করলেও সাম্প্রতিক তীব্র লড়াই নিয়ে তাদের ফোনালাপে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে বিবৃতিতে ইয়েমেনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। একই সময়ে ইয়েমেনের চলমান সংঘাত নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
ইরান ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হুথিরা কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও প্রধান বন্দরনগরী হোদেইদার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম পথ লোহিত সাগর। সুয়েজ খালের মাধ্যমে এই জলপথ বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সংযুক্ত করেছে।
হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে লোহিত সাগরে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার জোটটি দাবি করে, হুথিরা দক্ষিণ সৌদি আরবের কয়েকটি শহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।