জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সমাবেশ

 ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইনডিয়া জোটের ঘোষিত দিল্লির সমাবেশ।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইনডিয়া জোটের ঘোষিত দিল্লির সমাবেশ।

মুক্তমন রিপোর্ট : ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিজেপিবিরোধী ২৮টি রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইনডিয়া’। সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে জোটটি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে ইনডিয়া জোটের প্রধান শরিক কংগ্রেসের হরিয়ানা রাজ্য শাখার সভাপতি রাও নরেন্দ্র সিং ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দত্তের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

কংগ্রেসের এই দুই নেতা বলেন, ভোটার তালিকার শুদ্ধতা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এসব বিষয়ে দলটি কোনো আপস করবে না।

তাদের দাবি, কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের দেশব্যাপী ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরিয়ানার প্রতিটি জেলা, ব্লক, গ্রাম ও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

রাও নরেন্দ্র সিং ও সঞ্জয় দত্ত জানান, দলের কর্মীদের ভোটার তালিকার সম্ভাব্য গরমিল নথিবদ্ধ করা, যোগ্য ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং ১ নভেম্বরের সমাবেশে হরিয়ানা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশকে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে দেখছে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতিতে অনিয়মের অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসের ভাষ্য, তাদের অভিযোগ অনুযায়ী ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশ গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় ঐক্যের বার্তা দেবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঞ্জয় দত্ত বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যোগ্য নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং তালিকা সংশোধনের সময় ওঠা গরমিলের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সঞ্জয় দত্ত ও রাও নরেন্দ্র সিংয়ের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে বহাল থাকলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর যথাযথ সমাধান সম্ভব নয়। তাই তারা তার পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তদন্তে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করা বা আইন লঙ্ঘনের দায় প্রমাণিত হলে গ্রেপ্তারসহ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পিটিআইকে সঞ্জয় দত্ত বলেন, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের ভিত্তি। প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা মানে সংবিধান ও জনগণের রায়কে সুরক্ষিত রাখা।

তিনি আরও বলেন, এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের জন্য নয়; বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বেছে নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য।

সূত্র : পিটিআই, ইন্ডিয়া টুডে

Muktomon/TA