উত্তরায় জিপিএ-৫ পাওয়া চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

আহমাদ বিন ইকরাম : এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর উত্তরার লাভ লীন কনভেনশন হলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া চার শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি কল্যাণমুখী, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধা, তারুণ্য ও উদ্যমকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সফলতার জন্য অধ্যবসায় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কোনো একটি সুযোগ হাতছাড়া হলে হতাশ না হয়ে নতুনভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জীবনে পাওয়া সম্মান ও সাফল্য যথাযথভাবে ধরে রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিক পথ রয়েছে। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে বা নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে সুযোগ না পেলেও বিকল্প সুযোগ কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সাফল্যের পর মানুষের মধ্যে দুই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়—কেউ অহংকারী হয়ে ওঠে, আবার কেউ আরও বিনয়ী হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের সঙ্গে বিনয় ও দায়িত্বশীলতা ধরে রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বড় সাফল্য অর্জন করবে—এটাই প্রত্যাশা। তবে সাফল্য যেন তাদের অহংকারী না করে। যত বড় হবে, তত বেশি বিনয়ী হওয়ার পাশাপাশি বাবা-মা, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের কথাও স্মরণ রাখতে হবে।

সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের জন্য ছাত্রশিবির উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে নৈতিক চরিত্র, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পরবর্তী শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সামনে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি প্রতিযোগিতামূলক পর্যায় অপেক্ষা করছে। আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা ও নিয়মিত পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেলে সফলতা অর্জন সম্ভব।

এ সময় শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনয়ের সঙ্গে চলার আহ্বান জানানো হয়। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, কোরআন-হাদিসের শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সায়েম। শাখার সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মায়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল।