মুক্তমন রিপোর্ট : ইরানে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ মজুত নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করা ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ নেই—এমন বিষয় বারবার তুলে ধরছেন, তারা আসলে রাষ্ট্রদ্রোহী।
সমালোচকদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে পরাজয় দেখতে চান। একই সঙ্গে ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জয়ী হচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্য একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কার্যত সীমাহীন পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান অভিযান কিংবা ভবিষ্যতের অন্য কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধে ব্যবহারের তুলনায় দেশটির কাছে মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদের মজুত অনেক বেশি।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় গোলাবারুদ উৎপাদন করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য গোলাবারুদ ধরে রাখছে। এ কারণে অন্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি আপাতত সীমিত করা হয়েছে। তবে শিগগিরই মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার নীতিরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে বিনামূল্যে যে পরিমাণ গোলাবারুদ দিয়েছে, ইরানে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত তার চেয়েও কম গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে।
ইউক্রেন ও ন্যাটোকে বিনামূল্যে বিপুল অর্থের সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, তার প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে এসব সহায়তার অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেবে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এ অর্থ ফেরত চাওয়া হবে অনেকটা বিলম্বিতভাবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার মধ্যেই দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতির খবর খণ্ডন করতে ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন।