নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে তিতাস গ্যাসের বিতরণ পাইপলাইন ও রাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টানা চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের জরুরি মেরামতকাজ শেষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নবীগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন এবং স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদরুল আলমের নেতৃত্বে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে অভিযান শুরুর আগে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে কোনো আগাম নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযানের সময় ভারী এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে একটি বাণিজ্যিক ও ১৫টি আবাসিকসহ মোট ১৬টি গ্যাস রাইজার এবং বিতরণ পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পাইপলাইন থেকে দ্রুতগতিতে গ্যাস বের হতে শুরু করলে এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তিতাস গ্যাসের জরুরি দল তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়ানো গেলেও গ্যাসসংকটে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও গ্রাহকেরা।
পরে তিতাস গ্যাসের ‘জোবিঅ-বন্দর’ কার্যালয় ও জরুরি কারিগরি দল যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাইজার ও পাইপলাইন মেরামত এবং পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে। টানা চার দিনের চেষ্টায় মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে শনিবার সকালে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়।
মেরামতকাজ তদারকি করেন তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক (জোবিঅ-বন্দর) প্রকৌশলী জাহিন আমীর খান, সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম রনি এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানের সময় গ্যাসলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে এ ধরনের ক্ষতি ও ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হতো। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Muktomon/TA