কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে, আক্রান্ত ৬ হাজারের বেশি।
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে, আক্রান্ত ৬ হাজারের বেশি।

মুক্তমন রিপোর্ট : মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ইবোলা মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইবোলায় ৩ হাজার ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ১৮৬ জন। গত ১৫ মে ইতুরি প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই রোগটির বিস্তার শুরু হয়ে থাকতে পারে।

ইবোলার বুন্দিবুগিও প্রজাতির কারণে সৃষ্ট এবারের প্রাদুর্ভাবটি ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এটিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ওই প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

কঙ্গো সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এর মধ্যেই দেশটির ছয়টি প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল রোগ নজরদারি ব্যবস্থা, বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা ও তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলায় মারা যাওয়া মানুষের প্রায় ৬০ শতাংশই চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে মারা যাচ্ছেন। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর আগেই শনাক্ত করা এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলার বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্টারন্যাশনাল এইডস ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভসহ (আইএভিআই) কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই প্রজাতির বিরুদ্ধে টিকা তৈরির গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে কঙ্গো কর্তৃপক্ষ প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে মার্কের তৈরি এরভেবো টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। টিকাটি ইবোলার জায়ারে প্রজাতির বিরুদ্ধে অনুমোদিত হলেও বুন্দিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধেও কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।