মুক্তমন রিপোর্ট : চিকিৎসা সরঞ্জাম চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভিয়েতনামের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রান ভান থুয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘুষের অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ আমদানির সঙ্গে যুক্ত ভিয়েত মাই মেডিকেল ইনভেস্টমেন্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানির বিরুদ্ধে চোরাচালান ও হিসাবসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই থুয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী ট্রান ভান থুয়ান দেশটির একজন পরিচিত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। ২০২০ সালে তিনি উপস্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০২৪ সালে তাকে ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়।
ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের দুই নির্বাহী কর্মকর্তা ও একজন হিসাবরক্ষককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সিঙ্গাপুর ও হংকং থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ আমদানি, পুনর্বিক্রি এবং পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেখাতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করা হতো।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
ভিয়েতনামে কয়েক বছর ধরে বড় পরিসরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। এ অভিযানে দেশটির ব্যবসায়ী ও সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট তো লামের নেতৃত্বে জোরদার হওয়া এই অভিযানের কারণে ভিয়েতনামের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এর আগে গত মে মাসে হাসপাতাল প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগুয়েন থি কিম তিয়েনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।