মুক্তমন রিপোর্ট : নাটোরের লালপুরে এক তরুণীকে অপহরণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে লালপুর থানার উত্তর লালপুর ও জোতদৈবকী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন উত্তর লালপুরের আশিক জামান (২০), কাজল ইসলাম (১৯) ও জোতদৈবকী গ্রামের শাকিল ইসলাম বাদল (২৩)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর দুপুরে ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণী আশিকের সঙ্গে দেখা করতে লালপুরের গোপালপুর রেলগেটের দক্ষিণ পাশের সিএনজি স্ট্যান্ডে যান। পরে আশিক ও কাজল তাকে একটি ইজিবাইকে করে পার্কে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিকেলে জোতদৈবকী গ্রামের শাকিলের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো ও অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন মেহেদী নামে আরও একজন নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তরুণীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন আশিক ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের পরামর্শে ভুক্তভোগী লালপুর থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের সোমবার আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তার কাজল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের চুরি, চোরাই মাল গ্রহণ ও ভাঙচুরের একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া শাকিল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে একই বছরের মারামারি ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Muktomon/TA