রায় কার্যকর নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠির তথ্য

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বন্দিতালিকায় ছিল না সাজা

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বন্দিতালিকায় ছিল না সাজা

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কূটনৈতিক ও বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিতালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ ছিল না। রায়ের নথি, অভিযোগের বিস্তারিত ও বিচারপ্রক্রিয়ার তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ।

মুক্তমন প্রতিবেদন | ঢাকা : সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা, কনস্যুলার যোগাযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিয়ে। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতির মাধ্যমে। অথচ জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটের কাছে পাঠানো বন্দিতালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও সাজার বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না।

জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চিঠি ও পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্যবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশি মিশন বিস্তারিত তথ্য পায়নি।

ঘটনাটি এখন শুধু দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে কী তথ্য থাকে এবং গুরুতর সাজা কার্যকরের আগে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

বন্দিতালিকায় নাম, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না

কনস্যুলেটের চিঠি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা পাওয়া যায়। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের কোনো উল্লেখ ছিল না।

তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের আইনে অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি ছিলেন জেদ্দার নারী কারাগারে।

দুজনই সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া তালিকায় তাঁদের আটকের তথ্য থাকলেও মামলার চূড়ান্ত রায় বা মৃত্যুদণ্ডের কথা ছিল না। ফলে তালিকাটি পাওয়ার পরও তাঁদের জীবনদণ্ডসংক্রান্ত চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে বাংলাদেশি মিশন অবগত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার দায়ে ওই দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে ১৪ অক্টোবর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের পর তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন এবং তাজিরভিত্তিক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রায় বহাল থাকার পর তা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে কথিত ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ, কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল এবং ঘটনার সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বাংলাদেশের কনস্যুলেটও মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরকারি ঘোষণা হলেও, মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ও প্রমাণপত্র ছাড়া অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ সীমিত।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর কূটনৈতিক তৎপরতা

ঘটনাটি জানার পর বাংলাদেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে। ১৫ অক্টোবর জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চায়। পরবর্তী সময়ে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

১৮ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আগের কূটনৈতিক নোটের একটি অনুলিপি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকটিকে রাষ্ট্রদূত তলব হিসেবে বর্ণনা না করার বিষয়েও স্পষ্ট করা হয়েছিল।

এরপর ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক মহাপরিচালক ফারিদ বিন সাদ আল-শেহরির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানেও পরিষ্কার ব্যাখ্যা না পাওয়ার পর একই দিনে নতুন করে কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশের অনুরোধের মূল বিষয় হলো—দুই ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, আদালতের রায়ের অনুলিপি, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত কীভাবে চূড়ান্ত হয়েছিল, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া।

পরিবারের অজানা ছিল বিচার ও সাজার খবর

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দুই পরিবারের জন্যও আকস্মিক হয়ে আসে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সুইটি আক্তারের বাবা ফজল মিয়া জানিয়েছেন, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য তিনি ঋণ করেছিলেন। মেয়েকে পাঠানোর পর প্রথম কয়েক মাস তিনি দেশে টাকা পাঠাতেন। পরে সুইটি কারাগারে থাকার কথা পরিবারকে জানান।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুইটি একসময় দাবি করেছিলেন যে সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে এই বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই বা মামলার নথি প্রকাশ্যে না আসায় অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

পরিবার আরও জানিয়েছে, সুইটি নিয়মিত যোগাযোগ করলেও বিচার, সাজা বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও পরিবার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায় ছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলামের পরিবারও তাঁর মৃত্যুর খবরের পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কিছু দাবি ছড়ালেও, পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না; কাজের উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য কতটা হালনাগাদ

কনস্যুলেটের চিঠিতে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে নৈতিকতাসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় আটক ৩০৬ জন বাংলাদেশির তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষিত হয়েছিল বলে চিঠিতে বলা হয়। সাজাগুলোর মধ্যে এক মাসের কারাদণ্ড থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের তথ্য রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে নিয়মিত ও হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে, তাঁর মামলার অগ্রগতি, আইনজীবীর সহায়তা, আদালতের রায় এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মিশন কতটা অবগত—তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে বন্দিতালিকায় মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ না থাকার কারণ কী, সৌদি কর্তৃপক্ষ কখন এবং কীভাবে চূড়ান্ত রায়ের তথ্য নথিভুক্ত করেছে, কিংবা বাংলাদেশি মিশনকে অন্য কোনো পথে এ তথ্য জানানো হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

আইনি সহায়তার আবেদন ছিল না, নাকি তথ্যই পৌঁছায়নি?

কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি এবং তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করা হয়নি। একই সঙ্গে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা বা তা কার্যকরের বিষয়ে কনস্যুলেটকে জানায়নি।

এই দুটি তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। পরিবার আবেদন না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কী তথ্য ছিল, তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল কি না এবং গুরুতর সাজা সম্পর্কে মিশনকে জানানোর কোনো ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

শুধু পরিবারের আবেদন না থাকার তথ্য দিয়ে তাঁদের আইনগত প্রতিনিধিত্বের অবস্থা বা বিচারপ্রক্রিয়ায় সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ জন্য মামলার নথি, আইনজীবী নিয়োগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের রায় প্রয়োজন।

এখন বাংলাদেশের সামনে কী করণীয়

কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, রায়ের অনুলিপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পেতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে। নথি পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই তথ্য পাওয়ার পর কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হতে পারে—দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল, আদালতে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কি না, আপিলের সুযোগ কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ডের রায় কখন চূড়ান্ত হয় এবং বাংলাদেশি মিশনকে আগে জানানো সম্ভব ছিল কি না।

এ ছাড়া পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর পৌঁছানো, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তার বিষয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা প্রবাসীদের সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নথি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত মামলার সব তথ্য, অভিযোগের সত্যতা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের ঘাটতির পূর্ণ চিত্র নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্র: জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চিঠির বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন; দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ডেইলি সান, বাংলা ট্রিবিউন ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।