মুক্তমন রিপোর্ট : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, কোনো ধরনের তদন্তের বিস্তারিত তথ্য বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর দেওয়া বক্তব্যটি ভুলবশত হয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কিছু তথ্য নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ১১ মে। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতি হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য একইভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।