গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা: জেডিপি

গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা: জেডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসন করা না গেলে দেশ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংকট নিরসনে সরকারের দেওয়া আশ্বাস ও বক্তব্যে সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

রাজধানীর শাহবাগে ‘তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদ এবং দ্রুত পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের দাবিতে’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে জেডিপির নেতারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, দেশের শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি গ্যাস। কিন্তু দীর্ঘদিনের সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নতুন বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে এবং দেশ গভীর অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সহায়তার দাবি জানিয়ে নাঈম আহমাদ বলেন, সরকার পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধে বাধ্য করা ন্যায়সংগত হবে না। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ বা স্থগিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তিনি।

গার্মেন্টস খাতের নারী শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, অনেক নারী শ্রমিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করার পর বাসায় ফিরে রান্নার জন্য গ্যাস পান না। আবার ভোরেই তাদের কর্মস্থলে যেতে হয়। নিম্ন আয়ের কারণে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাওয়াও অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে নিম্ন আয়ের নারী শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই শিল্পাঞ্চল ও শ্রমজীবী মানুষের আবাসিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষি খাতের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নাঈম আহমাদ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং সার উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিলে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব খাদ্যনিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির ওপর পড়বে।

মানববন্ধনে জেডিপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা বড় ধরনের গণবিক্ষোভে রূপ নেওয়ার আগেই সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, দেশের নিজস্ব গ্যাসসম্পদ ও সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি প্রান্তিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করা এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আকর্ষণীয় দামে কেনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ, জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, নির্বাহী পরিষদের সদস্য রাকিবুল মিলন ও আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ইয়াসিন আরাফাত রাজ, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইঞ্জিনিয়ার আইমান আন্দালিব, নাঈম আল ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।