প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। দীর্ঘ নয় মাস ধরে ত্রিশটি রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে এই সনদের এজেন্ডাগুলো তৈরি হয়েছে। ফলে এই চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে” শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আলী রীয়াজ। আলোচনা সভার আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)।
আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয়; বরং এটি অগণিত শহীদের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের বাস্তব প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থান স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছে—বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং যারা অন্যায় করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা জমিদারিতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না বলেও তিনি জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। আর সেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। “ন্যায়বিচার, সংস্কার এবং নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার—সবকিছুর চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকতে হবে,”—বলেন তিনি।
আলোচনায় আলী রীয়াজ দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদের যাঁতাকল থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে প্রত্যেক নাগরিক নিজেকে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হিসেবে ভাবতে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেদিন প্রত্যেক নাগরিককে স্বাধীন ও মুক্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ূন কবির। আলোচনায় বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের ডিস্টিংগুইশড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক।
গোলটেবিল আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, গবেষক এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।