নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলের জাতির সাথে প্রতারণা!

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলের জাতির সাথে প্রতারণা!

ফারদিন ফেরদৌস : গণমাধ্যমগুলো সোৎসাহে খবর করেছে, সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এসএসসিতে এবারও তাক লাগানো ফল করেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস। এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ–৫ পেয়েছে সবাই।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় ফলাফল প্রকাশের পরপরই নেচেগেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদের পাশাপাশি আনন্দে মাতেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। অভিভাবকেরা নিয়ে আসেন মিষ্টির প্যাকেট। এ সময় একজন অন্যজনকে জড়িয়ে উল্লাসে মাততে দেখা যায়।

এটা কিভাবে সম্ভব? ওই স্কুলের সবাই কি ভিনগ্রহ থেকে এসেছে? ওদের সবাইকে তিনবেলা অধিকতর পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয়? ওরা সবাই জেনেটিক্যালি মেরিটরিয়াস? তাদের শিক্ষাপদ্ধতি কি ম্যাজিক্যাল কিছু?

না এর কোনো কিছুই না। ওই স্কুলের যে শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষা কিংবা এর আগের অপরাপর পরীক্ষায় জিপিএ -৫ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না -তাদেরকে নাছিমা কাদিরের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় বসতেই দেয়া হয় না। এটি নির্মম এক ছাঁটাই প্রক্রিয়া। এর নাম আর যাইহোক বৈষম্যহীন সুষম শিক্ষাব্যবস্থা নয়।

আপনাকে তখন ক্রেডিট দেব -যখন আপনি একজন বি গ্রেডের স্টুডেন্টকে আপনাদের যুগোপযোগী আধুনিক শিখন পদ্ধতি দিয়ে আরো উন্নততর গ্রেডে নিয়ে আসতে পারবেন। আমরা আরো খুশি হতাম যদি শুনতাম -আচার ব্যবহার, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিষ্ঠা, বিনয়, অধ্যবসায়, কর্তব্যপরায়ণতা, সততা, মহানুভবতা এবং দেশপ্রেমে দেশের অপরাপর বিদ্যায়তনের গোল্ডেন এ প্লাস গ্রেডের তুলনায় নাছিমা কাদিরের বি গ্রেডের স্টুডেন্ট অধিকতর যোগ্য।

বুঝাই যাচ্ছে আপনি বিপুলসংখ্যক স্টুডেন্ট ও তাদের অভিভাবকদের ঠকিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিটবাজির নেশায় মেতেছেন। যেটি আমাদের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অতি অবশ্যই সুখকর কিছু নয়।

শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উচিত হবে তাদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া। এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাও এর ভিতরকার অভিসন্ধি খুঁজে বের করতে পারে। হয় তারা ক্যাডেট কলেজের স্টাইলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক স্টুডেন্ট ভর্তি করে তাদের সবাইকে মানুষ করুক -আদারওয়াইজ এসএসসির আগে টেস্ট পরীক্ষায় যারা অ্যালাউ হবে -সবাইকে ওই স্কুলের অধীনে পরীক্ষায় বসবার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২৫ সালেও একই ড্রামা মঞ্চস্থ হয়েছিল। ৩২০ জন পরীক্ষায় বসে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। দেশজুড়ে বাহ্বা কুড়িয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে যে জিপিএ ফাইভের দ্বিগুণসংখ্যক স্টুডেন্টকে -নির্মম নিষ্ঠুরতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ছেঁটে ফেলে দেয়া হয়েছিল সেই খবর কেউ রাখেনি।

বিবিধ অন্যায্য কারিকুরির মধ্য দিয়ে বানানো মেধাবী শিক্ষার্থীর চেয়ে এই জাতিরাষ্ট্রের জন্য অধিকতর দরকার ভালো মানুষ। মেধা গড়পরতা থাকুক -ভালো মানুষ যারা গড়তে পারবেন আমরা অকুণ্ঠ চিত্তে তাদেরকেই সাধুবাদ জানাব। সেটি যদি থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস হয় -তারাও অভিবাদন পাবে।🪶