ঢাকা–১৮ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তীব্র


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা–১৮–এ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা, গভীর রাতে মিছিল এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী বা তার নির্বাচনী টিমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে খিলক্ষেত থানাধীন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আহাবর এলাকায় একটি মন্দির প্রাঙ্গণে বিএনপি প্রার্থীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারণা এবং নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে মিছিল বা শোডাউন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় মিছিল, স্লোগান ও গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এদিকে একই দিনে সকালে ডুমনী এলাকায় ভোটারদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে একটি ক্লাবে ডেকে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভোটার পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করে প্রত্যেককে দুই কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকদের মাধ্যমে খাদ্য বা উপহারসামগ্রী বিতরণ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি একই ওয়ার্ডে অপর এক জোট প্রার্থী আরিফুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনাও আলোচনায় আসে। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নির্দেশে এ হামলা সংঘটিত হয় এবং এতে প্রার্থী আহত হন। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দিদার মোল্লাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ঢাকা–১৮ আসনে ওঠা এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



