তালেবানের নারীশিক্ষা নীতি ও জাকির নায়েককে ঘিরে বিতর্ক

তালেবানের নারীশিক্ষা নিষেধাজ্ঞা ও জাকির নায়েকের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা
তালেবানের নারীশিক্ষা নিষেধাজ্ঞা ও জাকির নায়েকের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা

মঈনউদ্দিন মনি : আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের নারীশিক্ষা নিষেধাজ্ঞা এবং এ বিষয়ে ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাকির নায়েকের বক্তব্যকে তালেবানের নীতির সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করে তাঁর সমালোচনা করেছেন লেখক মঈনউদ্দিন মনি। তাঁর মতে, নারীশিক্ষার সুযোগ সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হলে তা মুসলিম সমাজের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্বে প্রায় দুই বিলিয়ন মুসলমানের অর্ধেক নারী—এ বিষয়টি তুলে ধরে লেখক প্রশ্ন করেছেন, জনগোষ্ঠীর অর্ধেককে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা থেকে দূরে রেখে কোনো সমাজ কীভাবে টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করবে? তাঁর মতে, নারীরা শুধু পরিবারের সদস্য নন; তাঁরা সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

লেখকের বক্তব্য, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো সমাজের ওপর। বিশেষ করে একজন মা যখন শিক্ষার সুযোগ পান না, তখন পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মঈনউদ্দিন মনি বলেন, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করে কোনো সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইসলামের নামে নারীদের শিক্ষা থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টারও সমালোচনা করেন তিনি।

লেখায় লেখক জাকির নায়েকের অনুসারী ও কয়েকটি ধর্মীয় মতবাদের সমালোচনা করেছেন। তবে কোনো ব্যক্তির অনুসারী হওয়া মাত্রই তাঁকে নারীশিক্ষাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না—এমন বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ধর্মীয় মতপার্থক্যের আলোচনা যেন কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর সব সদস্যকে একভাবে বিচার করার দিকে না যায়, সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

নারী-পুরুষের সমান মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াতের বক্তব্যও তুলে ধরেছেন লেখক। তাঁর উদ্ধৃত দর্শন অনুযায়ী, নারী ও পুরুষের বাহ্যিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে অভিন্ন মানবসত্তা। তাই অধিকার, স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নির্ধারিত হওয়া উচিত মানুষের পরিচয়ের ভিত্তিতে, লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়।

লেখায় আল্লামা ইমাম হায়াতের ‘মায়ের মাতৃত্ব সর্বোচ্চ নেতৃত্ব’ বক্তব্যের মাধ্যমে মাতৃত্ব ও সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, যে নারী শিশুর মানসিক বিকাশ ও প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তাঁকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

মঈনউদ্দিন মনির বক্তব্য, নারীশিক্ষা ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় বা মতাদর্শের অজুহাতে বৈষম্য সমর্থন করা উচিত নয়। তাঁর মতে, শিক্ষা, অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখকের মতামত: নারীশিক্ষা কোনো সমাজের জন্য ঐচ্ছিক বিষয় নয়; এটি মানবিক মর্যাদা, সামাজিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই ধর্মীয় ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নারীদের শিক্ষার অধিকার সংকুচিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার সমালোচনা প্রয়োজন।

Muktomon/TA