মুক্তমন রিপোর্ট : নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বহিষ্কারের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত।
শুক্রবার মার্কিন ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের একটি প্যানেল নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় মূলত বহাল রাখে। ওই রায়ে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নিজ দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ওপর নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কোনো অভিবাসীকে ‘তৃতীয় দেশে’ পাঠানোর আগে তাকে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে জানাতে হবে—কোন দেশে তাকে পাঠানো হচ্ছে।
এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই দেশে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ পাবেন।
তিন বিচারকের সর্বসম্মত প্যানেলের পক্ষে রায় লেখেন বিচারক সেথ আফ্রেম। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে এমন একটি দেশে পাঠানো হলে যেখানে তার নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অধিকার তখনই কার্যকর হবে, যখন তাকে আগে থেকেই গন্তব্য সম্পর্কে জানানো হবে এবং আপত্তি জানানোর যথাযথ সুযোগ দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নীতিমালা অনুযায়ী, এমন কোনো দেশে কাউকে বহিষ্কার করা যাবে না যেখানে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বা তিনি নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।
বিচারক আফ্রেমের মতে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)-এর নীতি অনুসরণ করা হলে তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে গন্তব্য না জানানো বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিককে এই আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
আপিল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত অভিবাসী বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তার প্রশাসন বহিষ্কার কার্যক্রম দ্রুত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, বহিষ্কারের তালিকায় থাকা কিছু অভিবাসীর নিজ দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে কখনো কখনো অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে তাদের অন্য দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।
তবে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগেই গন্তব্য জানানো এবং সেখানে নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বহাল রাখা হয়েছে।
সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি
Muktomon/TA