চট্টগ্রাম ঘিরে জাপানি বিনিয়োগের বড় পরিকল্পনা

চট্টগ্রামে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জেট্রো ও চেম্বার নেতাদের আলোচনা
চট্টগ্রামে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জেট্রো ও চেম্বার নেতাদের আলোচনা

মুক্তমন রিপোর্টার : বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার ও চট্টগ্রামের কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের জাপানি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেমিনার হলে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) বাংলাদেশস্থ চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা।

কাজুইকি কাতাওকা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশেষ করে ঢাকার বড় বাজার ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের বাজারকে কেন্দ্র করে জাপানের সাড়ে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বিনিয়োগ করছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য অন্যান্য দেশেও রপ্তানি করছে। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও জাপানের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা রয়েছে।

জেট্রোর বাংলাদেশ প্রধান বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (EPA) বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কাজুইকি কাতাওকা বলেন, আড়াইহাজারের জাপানি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণে শুধু সরকারের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহী জাপান। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে।

তিনি চট্টগ্রামের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় শিল্প খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগাতে স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাকে টেকসইভাবে কাজে লাগাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও এলএনজি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশ থেকে জাপানে তৈরি পোশাক আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সোলার ব্যাটারি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বক্তব্য দেন।

এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক আবু হায়দার চৌধুরী, মো. আফসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম, মো. সেলিম নুর, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সেলিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. সালেহ জহুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামকে ঘিরে জাপানি বিনিয়োগের এই আগ্রহ বাস্তবে রূপ নিলে জ্বালানি, শিল্প, লজিস্টিকস ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।