বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে

 ২০২৬ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি
২০২৬ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি

মুক্তমন রিপোর্ট : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে পুরুষ ও নারী জাতীয় দলের প্রথম ছয়টি ম্যাচে স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি এবং টেলিভিশনে দর্শকসংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে অনুষ্ঠিত ছয়টি ম্যাচের প্রতিটিতেই স্টেডিয়ামের অন্তত ৯৫ শতাংশ আসন পূর্ণ ছিল। এর মধ্যে অরল্যান্ডো, গ্লেনডেল ও ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তিনটি ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

দর্শকদের মাঠে আনতে ২৫ থেকে ৩৫ মার্কিন ডলারের মধ্যে রাখা হয়েছিল সর্বনিম্ন টিকিটের দাম। এতে বিভিন্ন শহরে জাতীয় দলের ম্যাচগুলোতে দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এনার্জাইজার পার্ক, স্টেট ফার্ম স্টেডিয়াম ও অ্যালিয়াঞ্জ ফিল্ডে জাতীয় দলের ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য ভেন্যুগুলোতেও দর্শক উপস্থিতি ছিল ইতিহাসের সেরা তিনের মধ্যে।

দর্শকদের এই সাড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ডেভিড রাইট বলেন, জাতীয় দলগুলোর প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা বাড়ছে। স্টেডিয়ামে দর্শকের উপস্থিতি, টেলিভিশনে খেলা দেখা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সমর্থকদের অংশগ্রহণে সেই চাহিদার প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার বড় সুযোগ রয়েছে।

টেলিভিশন সম্প্রচারেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। গত ৩ অক্টোবর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় দলের ম্যাচটি ইংরেজি ভাষার সম্প্রচারমাধ্যম টিএনটি স্পোর্টসে গড়ে ৬ লাখ ২৬ হাজার দর্শক দেখেছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দলের আগের ম্যাচের তুলনায় এই সংখ্যা ৯৭ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারমাধ্যম টেলিমুন্ডোতে ম্যাচটি গড়ে ১৭ লাখ দর্শক দেখেছেন। ম্যাচ চলাকালে সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা পৌঁছেছিল ২২ লাখ ২০ হাজারে।

স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ও টেলিভিশন দর্শকসংখ্যার এই পরিসংখ্যান বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে কি না, তা বোঝার জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোর দর্শকসংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Muktomon/TA