আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা জগতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান আরকানাম গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদুল রনি ওয়াহিদ
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান আরকানাম গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদুল রনি ওয়াহিদ

মুক্তমন রিপোর্ট : মাত্র ১৩ বছর বয়সে পকেটে ১০০ ডলার ও একমুখী বিমানের টিকিট নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন মাসুদুল রনি ওয়াহিদ, যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রনি ওয়াহিদ বা ‘রন’ নামে পরিচিত। চার দশক পর তিনি বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান আরকানাম গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি পেয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া রনি ওয়াহিদ পরবর্তী সময়ে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেশটির ‘অর্ডার অব মেরিট’ পদকে ভূষিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আরকানাম গ্লোবাল বিভিন্ন দেশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির কাজের মধ্যে গোপন নথি সংগ্রহ, সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন পক্ষকে তথ্য সরবরাহের মতো কার্যক্রম রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান মীর দাগান, ফ্রান্সের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বের্নার্দ স্কুয়ারচিনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক অ্যাডমিরাল ডেনিস ব্লেয়ার বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

আরকানাম গ্লোবালের আলোচিত ক্লায়েন্টদের মধ্যে কাজাখস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট নূরসুলতান নাজারবায়েভের সরকারের নামও এসেছে। দেশটির বিরোধী নেতা মুক্তার আব্লিয়াজভ ও আলমাতির সাবেক মেয়র ভিক্টর ক্রাপুনভের সম্পদের খোঁজে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত নথি অনুযায়ী, কাজাখ সরকার ২০১২ সালের শেষ নাগাদ আরকানামকে ৩৭ লাখ ডলার বিল পরিশোধ করেছিল। একই সঙ্গে বিরোধীদের ওপর নজরদারি, জিপিএস ট্র্যাকিং ও স্পাইওয়্যারযুক্ত ইমেইল পাঠানোর অভিযোগও ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছিলেন রনি ওয়াহিদ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কাজাখ সরকারের হয়ে কাজ করার সময় মার্কিন ব্যবসায়ী ফেলিক্স সাকারের সঙ্গেও ওয়াহিদের একটি চুক্তি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সাকারের প্রতিষ্ঠানকে মাসে এক লাখ ডলার এবং উদ্ধার করা সম্পদের ১৬ শতাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সাকার প্রায় ২৭ লাখ ডলার পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রনি ওয়াহিদের প্রতিষ্ঠিত আরেক প্রতিষ্ঠান আরজেআই ক্যাপিটালের বিরুদ্ধেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও ওপেনডেমোক্রেসির বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করার কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রনি ওয়াহিদের ব্যবসা ইউক্রেন যুদ্ধ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে আরকানাম গ্লোবালকে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পেট্রিয়ট ডিফেন্স গ্রুপ অধিগ্রহণ করে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোল্যান্ডের রজেসজো ও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তি ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহে ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ার আদলে একটি প্রস্তাবের রূপরেখাও তুলে ধরেছিলেন রনি ওয়াহিদ বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা খাতে তাঁর পরিচিতি বাড়লেও বাংলাদেশে তাঁর কার্যক্রম বা সংশ্লিষ্টতার উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি বলে মূল প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র : ডেইলি ওয়াদা

Muktomon/TA