মুক্তমন রিপোর্ট : রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়া মোড়ে অস্থায়ী দুর্গামন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন আটকে থাকার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক হলেও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তবে বৈঠক শেষে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বৈঠক শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে বৈঠক শেষে জমির মালিকানা দাবিদার রীতা রানী রায় অভিযোগ করেন, জেলা আওয়ামী কৃষক লীগ নেতা প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী প্রান্নু তাদের পারিবারিক জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করছেন। সেখানে অস্থায়ী পূজামণ্ডপকে স্থায়ী মন্দিরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রীতা রানী রায়ের দাবি, বিজয়া দশমীর পরও দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সেখানে রেখে জমি দখলের চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েও তারা ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল গোস্বামী বলেন, আদালত যে রায় দেবেন, তারা তা মেনে নেবেন।
বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। এখন দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। আগামী রোববার বিচারকের সঙ্গে কথা বলে জমি নিয়ে বিরোধের সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রংপুরে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে অস্থায়ী মন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র হয়। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে সেখানে এসআরবি সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
জমির মালিকানা দাবিদার পক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপূজার জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত তাদের পারিবারিক জমিটি দখলের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, মন্দির কমিটির দাবি, জমিটি মন্দিরের নামে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কেনার জন্য বায়না করা হলেও মালিকপক্ষ দলিল নিবন্ধন করে দিচ্ছে না। এ বিরোধের মধ্যে স্থায়ীভাবে কালীমন্দির স্থাপনের উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বিসর্জনের নির্দেশ দেওয়া হলেও মন্দির কমিটি তাতে সম্মত হয়নি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত জানানো হলেও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
Muktomon/TA