মুক্তমন রিপোর্ট : গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ২৩ অক্টোবর উৎপাদন শুরু হলেও মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগ দিলে উৎপাদন শুরু হয়। পরে ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামতের পর ১৬ দিনের বিরতি শেষে ২৩ অক্টোবর আবার উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। তবে উৎপাদন শুরুর দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংকটে ফের বন্ধ হয়ে যায়।
উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় রোববার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার উৎপাদন শুরু হবে।
কারখানা সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সাত মাস পর ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সংযোগ পেয়ে কারখানাটি পুনরায় চালু হয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কারখানাটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন যমুনা সার কারখানাটি ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে।
কারখানা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং উৎপাদন সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও অন্যান্য ব্যয়ের পাশাপাশি শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে সারসংকট দেখা দিতে পারে। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Muktomon/TA