রাষ্ট্রপতি যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন, আলোচনায় সম্ভাব্য উত্তরসূরি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে সুবিধাজনক সময়ে সম্মানজনকভাবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনার পাশাপাশি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ওই সচিবের নাম সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আরও আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কীভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হবে
সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
কেন পদত্যাগের আলোচনা
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়ে আসছে। জামায়াত ও এনসিপি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতাও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পক্ষে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অভিশংসন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ ছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এখন তার সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।