মুক্তমন রিপোর্ট : পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়টা ছিল হতাশার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে হারের পর সিরিজের মাঝপথেই স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন আনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সাত ক্রিকেটারকে বদলে নেওয়ার সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। তবে এজবাস্টন টেস্টে অভিষেক হওয়া পেসার রাজাউল্লাহ যেন মাঠের পারফরম্যান্সেই কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেন পাকিস্তানকে।
২১ বছর বয়সী এই পেসারের আন্তর্জাতিক অভিষেকটা শুরু হয়েছিল উইকেট দিয়ে। প্রথম শিকার হিসেবে তিনি তুলে নেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুটকে। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নিয়মিত বল করে নজর কাড়ার পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটও নেন রাজাউল্লাহ—যা পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে তার সবচেয়ে বড় চমক ছিল ব্যাট হাতে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং যখন পুরো সিরিজজুড়েই ধুঁকছিল, তখন এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আজান আওয়াইস, শান মাসুদ ও বাবর আজমের ফিফটির পর রীতিমতো ঝড় তোলেন রাজাউল্লাহ। মাত্র ৬৩ বলে ৪টি চার ও ৯টি ছক্কায় ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই পাকিস্তান ইংল্যান্ডের সামনে ১২৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
পাকিস্তানের ক্রিকেট পরিসংখ্যান বিশ্লেষক মাজহার আরশাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটার তার পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে পেসারদের বিপক্ষে ৮টি ছক্কা মারতে পারেননি। অথচ রাজাউল্লাহ এক ইনিংসেই ইংল্যান্ডের পেসারদের বিপক্ষে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
গাস অ্যাটকিনসন ও জফরা আর্চারের এক ওভারেই দুইবার করে ছক্কা মেরে তিনি নিজের সামর্থ্যের জানান দেন। এমনকি পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজমও টেস্ট ক্যারিয়ারে পেস বলে মাত্র একটি ছক্কা মেরেছেন, সেটিও এসেছে এই ইনিংসে জফরা আর্চারের বলে।
আরও একটি বিরল রেকর্ড হয়েছে এজবাস্টনে। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজাউল্লাহ ৯টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ২টি ছক্কা মারেন। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার শেষ তিন ব্যাটারের ব্যাট থেকে এক ইনিংসে ১১টি ছক্কা দেখল ক্রিকেটবিশ্ব।
টেস্ট অভিষেকে ৯টি ছক্কা মেরে রাজাউল্লাহ অবশ্য একটি রেকর্ডে যৌথভাবে জায়গা করে নিয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের পেসার টিম সাউদিও টেস্ট অভিষেকেই ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচেও নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড।
পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট অভিষেকে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও এখন রাজাউল্লাহর দখলে। মাত্র ৪৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ফাহিম আশরাফের, যিনি ৫২ বলে ফিফটি করেছিলেন।
এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ডও গড়েছেন রাজাউল্লাহ। তার ৮১ রান ছাড়িয়ে গেছে আগের রেকর্ডকে।
রাজাউল্লাহর ৮১ ও মোহাম্মদ আব্বাসের ৪২ রানের সঙ্গে শান মাসুদ, বাবর আজম ও আজান আওয়াইসের অর্ধশতকে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। এর আগে টানা পাঁচ ইনিংসে দুইশ রানের আগেই অলআউট হওয়া দলটি শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে ১২৯ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়।
ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই অভিষেক টেস্টে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে রাজাউল্লাহ তাই পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন।