চরফ্যাশনে মুসল্লিকে মসজিদে নামাজ পড়তে নিষেধ, হত্যার হুমকির অভিযোগ

চরফ্যাশনের বায়তুল আহাদ জামে মসজিদ
চরফ্যাশনের বায়তুল আহাদ জামে মসজিদ

 মীর সাজু : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের বায়তুল আহাদ জামে মসজিদে এক মুসল্লিকে নামাজ পড়তে নিষেধ, মসজিদ থেকে বহিষ্কার এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম ফরাজীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লি সাইফুল ইসলাম কামরুল।

অভিযোগে অপর দুই ব্যক্তির নাম নুরুল হক দরবেশ ও ইউসুফ ফরাজী। এ ঘটনায় গোপনে ধারণ করা একটি অডিও রেকর্ড সোমবার (৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম ফরাজীর কণ্ঠে সাইফুল ইসলাম কামরুলকে গালাগাল, মসজিদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো বক্তব্য শোনা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম কামরুলের দাবি, তাঁর দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেন। পরে ওই বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যসহ একটি ভিডিও সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁর ওপর চাপ বাড়ানো হয়।

কামরুল অভিযোগ করেন, জমি বিরোধের জেরে তাঁকে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম ফরাজী বলেন, সাইফুল ইসলাম কামরুলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। কামরুলের ভাই নাসিরের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। মসজিদ কমিটির সদস্যরা বিরোধটি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও কামরুল রাজি হননি। এ কারণে মসজিদ কমিটি তাঁকে বহিষ্কার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে শোনা বক্তব্য ও হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে সেলিম ফরাজীর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাইফুল ইসলাম কামরুলের বড় মেয়ে সাদিয়া আফরিন জুয়েনা বলেন, তাঁদের কোনো ভাই নেই, তারা তিন বোন। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি তাঁর ছোট চাচা আবু নাছিরকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জুয়েনার দাবি, এর আগে কয়েক দফায় তাঁর বাবা-মায়ের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ভোলা প্রতিনিধি

Muktomon/TA