মুকসুদপুরের কলেজে এইচএসসিতে শূন্য পাস, পরীক্ষার্থী ছিলেন মাত্র একজন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, যেখানে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, যেখানে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য।

শিহাব উদ্দিন : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বড় ব্যবধান দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখায় রয়েছেন ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক। অথচ কলেজ শাখা থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উঠে এসেছে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের নাম।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, একমাত্র পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

১৯৯৮ সালে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু করা হয়। বর্তমানে স্কুল শাখায় ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা সবাই এমপিওভুক্ত এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পান। তবে কলেজ শাখায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় কলেজ শাখায় পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে কলেজের পাঠদান কার্যক্রমেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “কলেজটি গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাঁদের কোনো উৎসাহ নেই।”

শিক্ষার্থী বাড়াতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, এ জন্য প্রতিবছর তাঁকে নিজের পকেট থেকেও টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় সেখানে শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু পরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলেজ শাখাটি চালু রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, “কলেজটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো।”

প্রতিষ্ঠানটির নতুন সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি সভাপতির দায়িত্বসংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো সভা করতে পারেননি। এ কারণে কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, তাঁর দপ্তরের দায়িত্ব মূলত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত। কলেজ শাখা তাঁদের সরাসরি দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। কলেজ পর্যায়ের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখভাল করেন।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন।

তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্কুল শাখায় ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক থাকার পরও কলেজ শাখায় শিক্ষার্থীর এমন সংকট এবং এইচএসসি পরীক্ষায় একমাত্র পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কলেজ শাখায় নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থী ভর্তির সংকটের কারণ কী এবং প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

Muktomon/TA