মুক্তমন রিপোর্ট : ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে একের পর এক ক্যাচের সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। চারটি ক্যাচের পাশাপাশি একটি সহজ রানআউটের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি ফিল্ডাররা। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশ নারী দলকে।
তবে ম্যাচের পর দলের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার মতে, ভারতের ব্যাটারদের দেওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে হারের মূল কারণ হিসেবে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দেখছেন তিনি।
সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ
ভারতের ইনিংসে স্মৃতি মান্ধানার উইকেট পেলেও ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতেই পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচ কঠিন হয়ে যায় বলে মনে করেন জ্যোতি।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘স্মৃতি মান্ধানা না শুধু, আমরা ওদের সব ব্যাটারকে নিয়েই কথা বলেছি। তারা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিল শেফালি ভার্মা। ওই ক্যাচ ধরলে পুরো দৃশ্য অন্যরকম হতে পারত। তবে যেভাবে মেয়েরা লড়াই করেছে, আমি খুশি।’
চার ক্যাচ মিস হলেও ফিল্ডিংয়ে সন্তুষ্ট অধিনায়ক
চারটি ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পরও ফিল্ডিং ইউনিটকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং তিন বিভাগের মধ্যে ফিল্ডিংয়েই দল তুলনামূলক ভালো করেছে বলে মনে করেন তিনি।
জ্যোতি বলেন, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিংই করেছি। এই বিভাগেই বাকি দুই বিভাগের চেয়ে ভালো করেছি। বোলাররা ভালোই তো করছে। ভারত অনেক ভালো ব্যাটিংও করছিল। শেষদিকে অনেক রান তুলেছে।’
১৩০-১৩৫ রানে ভারতকে আটকে রাখার সুযোগ ছিল
ভারতের ইনিংসের মাঝের সময়টায় বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছিল বলেও মনে করেন জ্যোতি। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করায় ভারতকে ১৩০ থেকে ১৩৫ রানের মধ্যে আটকে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়, ‘মাঝখানে আমরা ঠিকই নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ১৩০-১৩৫ রানেই ওদের আটকে রাখা যেত, তাহলে ব্যাটিং ইউনিটের সামনে ভিন্ন দৃশ্যপট থাকতো।’
ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার অভাবই বড় সমস্যা
বোলাররা নিজেদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করলেও রান তাড়ায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট। পুরো টুর্নামেন্টেই ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার অভাব দলকে ভুগিয়েছে বলে মনে করেন জ্যোতি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। গত কয়েক ম্যাচে যেভাবে বোলিং-ফিল্ডিং করেছি… তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’
ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা বলেও উল্লেখ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
জ্যোতির ভাষায়, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ ম্যাচে যারা রান করেছে এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’
সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হারের পর তাই ফিল্ডিংয়ের ভুলের চেয়ে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার ঘাটতিকেই বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক।